এপিবিএনের ৩ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি। তারা ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ এপিবিএন চেক পয়েন্টে দায়িত্বরত ছিলেন। তারা পুলিশের গুলিতে নিহত সিনহা হত্যার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।

টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর ৩ সদস্যকে আজ সকালে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে গেছে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব।

তারা হলেন- এপিবিএনের সাব ইন্সপেক্টর মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও কনস্টেবল মো. আবদুল্লাহ। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে র‌্যাবের একটি দল কক্সবাজার জেলা কারাগারে পৌঁছেন।
এরপর পৌনে ১২টার দিকে কারান্তরীণ এই তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-১৫ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগারের সুপার মোকাম্মেল হোসেন।

গত ১৮ আগস্ট এপিবিএনের এই তিন সদস্যের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ্। তারা সিনহা হত্যায় দায়েরকৃত জিআর ৭০৩/২০২০ (টেকনাফ) মামলার আসামি।

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ বাহারছরা শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ সড়কে ১৬ এপিবিএন এর চেক পয়েন্টে মেজর সিনহার গাড়িটি পৌঁছালে দায়িত্বরত ইপিবির সদস্যরা গাড়িতে চলে যাওয়ার সিঙ্গেল দেয়। সাথে সাথে কনস্টেবল লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত সেখানে পৌঁছে গাড়িটি থামায়। এর পর এক দুই মিনিটের মধ্যেই লিয়াকতের গুলিতে লুটিয়ে পরেন মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ খান।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ঘটনার সময় চেকপোস্টে দায়িত্বপালন করা এপিবিএন এর তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে হত্যাকাণ্ডে তারা সম্পৃক্ত। সব পর্যালোচনা করে তাদের গ্রেফতারের পর রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য বের হয়ে আসবে বলে র‌্যাবের প্রত্যাশা।

এর আগে এ হত্যা মামলায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়ার নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও মোহাম্মদ আইয়াছের ৭দিন করে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে দেওয়া হয়েছে।

রিমান্ডে থাকা সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে শুক্রবার রেকি করতে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। এসময় হত্যার ঘটনার রেকি (লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, আক্রমণপূর্ব পর্যবেক্ষণ, আক্রমণের কলাকৌশল) এবং ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা।

গত ৩ জুলাই শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাসকিনকে নিয়ে সিনহা ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে কক্সবাজার আসেন।
গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিষবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা।

By Md Anis

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *